এ্যাজমা শ্বাসতন্ত্রের একটি রোগ। শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত কারণে এ্যাজমা হয়ে থাকে। এই প্রদাহের প্রকৃতি ‘ক্রনিক’। অর্থাৎ, প্রদাহটি আকস্মিক নয়। সদা সর্বদাই বিদ্যমান। দেহব্যাবস্থার বিভিন্ন কোষ এবং কোষীয় উপাদান এ্যাজমায় ভূমিকা রাখে। শ্বাসতন্ত্রের অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার সাথে এ্যজমার ক্রনিক প্রদাহটির যোগসাজশ রয়েছে। এ্যাজমা রোগীদের প্রায় সময়েই “ হুয়িজিং” বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে তীক্ষ্ন বাঁশির মত শব্দ, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ এবং কাশির সমস্যায় ভুগতে হয়। বিশেষ করে রাতের শেষাংশে এবং সকালের প্রথম অংশে এসব উপসর্গগুলো প্রকট রূপ নেয়। ফুসফুস তার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিভিন্ন প্রকার বাঁধার সম্মুখীন হওয়ায় এই সমস্যাগুলোতে ভুগে থাকেন এ্যাজমার রোগীরা। এই প্রতিবন্ধতাগুলো অধিকাংশ সময়ই স্থায়ী কিছু নয়। যেভাবে প্রকাশ পায়, সেভাবে নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। আর না হলে, চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা যায়।
বিগত শতাব্দীর শেষভাগ থেকে ধীরে ধীরে বেড়েছে এ্যজমার প্রাদুর্ভাব। সকল বয়সের মানুষই এ্যাজমায় আক্রান্ত হতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসতন্ত্রের রোগগুলোর মধ্যে এ্যজমা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ্যজমা রোগের সৃষ্টি এবং চিকিৎসায় রোগের উন্নতির বিষয়টি মূলতঃ জেনেটিকাল বা বংশগত। অন্যদিকে, প্রতিবছরই এ্যাজমা রোগীর বাড়ছে। এর থেকে ধারণা করা যায় পরিবেশগত কারণও এ্যজমার জন্য দায়ী। ঘরে ভেতরে-বাহিরে এ্যলার্জির সৃষ্টিকারী জীবাণু, জড়কণা, খাদ্যাভাস, ভিটামিন, শিশুকে স্তন্যদান, সিগারেটের ধোঁয়া, বায়ুদূষণ এবং অতিরিক্ত ওজন সবকিছুর সাথেই এ্যজমার যোগ খুঁজেছেন গবেষকগণ। তবে পূর্ণাঙ্গ কোন চিত্র এখনও পাওয়া যায় নি।
এ্যজমা কিভাবে হয়?
l এয়ারওয়ে হাইপার রিয়েকটিভিটি বা বিভিন্ন ‘ট্রিগার’ বা উদ্দীপনা বশতঃ ‘এয়ারওয়ে’ বা ফুসফুসে অক্সিজেন আদান প্রদানে নিয়োজিত সূক্ষ্ন নালীকাগুলোর অতিরিক্ত সংকোচনের ফলেই এ্যাজমা হয়। সাধারণ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে এই একই উদ্দীপনা গুলোর প্রতি ‘এয়ারওয়ে’র এই ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। এর সাথে প্রায় সময়ই ‘এয়ারওয়ে’ বা অক্সিজেন-বাহী নালীকাগুলোর প্রদাহও থাকে। তবে অনেক সময় প্রদাহ না-ও থাকতে পারে। অন্য যে কারণগুলো এয়ারওয়ের স্মুদ মাসেল বা মসৃণ-পেশীকে প্রভাবিত করে সেগুলি হচ্ছে - নালীকা কি মাত্রায় সংকুচিত হয়, বিভিন্ন নিউরোজেনিক মেকানিযম বা স্নায়ুতন্ত্র ঘটিত কারণ।
l ‘এ্যাটপি’ বা মানবদেহের IgE ইমিউনোগ্লোবিউলিন-ই ( রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি প্রোটিন) তৈরীর প্রবণতা এবং এ্যজমার মাঝে সম্পর্কটি সুপ্রতিষ্ঠিত। অধিকাংশ এ্যজমা রোগীর ক্ষেত্রে “ সেনসিটাইজেশান” ( সংবেদনশীলতা) এবং নির্দিষ্ট ‘এ্যলার্জেন’ বা এলার্জি সৃষ্টিকারী জৈব-জড় কণার সংস্পর্শে আসার মাঝে একটি পরিষ্কার যোগসূত্র লক্ষ্য করা যায়। স্কিন-প্রিক রিয়াকটিভিটি এবং সেরাম-স্পেসিফিক আই-জি-ই IgE তার প্রমাণ।
l এ্যালার্জেনের উদাহরণের মধ্যে রয়েছে - বাড়িতে থাকা পোষা প্রাণী যেমন কুকুর বা বিড়াল, উঁই পোকা, তেলাপোকা, ফাংগাই এসব। শ্বাসের সাথে কোন একটি এলার্জেন প্রবেশ করে প্রাথমিক ভাবে একটি ব্রঙ্কোকন্সট্রিকটার ইফেক্ট বা ফুসফুসের বায়ুবাহী নালীকাগুলোর সংকোচন ঘটে। প্রাথমিক সংকোচনের পরে নালীকাগুলো আগের অবস্থায় ফিরে যায়। তারপর আবারও পরবর্তী একটি সময়ে সংকোচনের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ, দুটি দশা রয়েছে।
l ‘এ্যাসপিরিন’ গ্রহণের ফলে অনেকের এ্যজমার লক্ষণ প্রকাশ পায়। এক্ষেত্রে যেটি ঘটে, ‘স্যালিসাইলেট’ জাতীয় ঔষধ শরীরের প্রবেশ করে “ সাইক্লো-অক্সিজেনেয এনজাইম” গুলোকে কাজ করতে দেয় না। ফলে লাইপোক্সিজিনেয পাথওয়ের মাধ্যমে “ এ্যারাকিডনিক এসিড”-এর বিপাকীয় কার্যক্রমটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সৃষ্টি হয় এ্যজমা সৃষ্টিকারী ‘সিস্টেনাইল লিউকোট্রিনস’।
l এক্সারসাইজ ইনডিউসড এ্যজমা বা ব্যায়ামের ফলে হাঁপানি দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে হাইপারভেন্টিলেশান বা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাত্রা বেড়ে যাওয়া কারণে শ্বাসতন্ত্রের মিউকোসার “ পেরিসেলুলার লাইনিং ফ্লুইড” থেকে পানি বেরিয়ে যায়। এই পানি বেরিয়ে যাওয়ার ফলে এ্যাজমা সৃষ্টিকারী বিভিন্ন মিডিয়েটর বা কোষীয় উপাদান নিঃসরিত হয়। ব্যায়ামের ফলে রেসপিরোটোরী মিউকোসা থেকে তাপ ক্ষয় হয়। ধারণা করা হয়, এটিও একটি কারণ।
l ক্রনিক হাঁপানির ক্ষেত্রে শরীরের প্রদানজনিত প্রতিক্রিয়াটি আরও বেশী জটিল। অসংখ্য প্রকারের প্রদাহ সৃষ্টিকারী কোষ ( ইনফ্লামেটরী সেল) রক্তে চলে আসে। শ্বাসতন্ত্রের গাঠনিক কোষগুলো রূপান্তরিত হয় এবং প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। বিপুল পরিমাণ : সাইটোকাইন, কেমোকাইন, গ্রোথ ফ্যাক্টর ( এগুলো রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিভিন্ন উপাদান) নিঃসরণ হয় শরীর থেকে।
l এ্যাজমা বা হাঁপানি রোগীর কফ পরীক্ষা করলে বিভিন্ন ধরণের প্রদাহসৃ্ষ্টিকারী কোষের উপস্থিতি পাওয়া যায়। অ্যাজমায় “ এয়ারওয়ে ইয়োসিনোফিলিয়া” সাধারণতঃ প্রধান। তবে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে নিউট্রোফিল জনিত প্রদাগ প্রধান বিষয় হয়ে উঠতে পারে। আবার কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্রদাহের পরিমাণ খুব বেশী নয়। একে বলা হয় “ পওসি-গ্রানুলোসাইটিক” এ্যাজমা
এ্যাজমার তীব্রতা বৃদ্ধি ও দীর্ঘদিন ধরে রোগটি থাকলে শ্বাসতন্ত্রের স্বাভাবিক গঠনে পরিবর্তন চলে আসতে পারে। বায়ুবাহী সুক্ষ নালীকার গাত্রে ফাইব্রোসিস হতে পারে। এয়ারওয়েগুলো তখন স্থায়ী ভাবে সংকুচিত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন ব্রঙ্কোডাইলেটার ঔষধগুলো ব্যবহার করেও তেমন ফলাফল পাওয়া যায় না।
এ্যাজমা বা হাঁপানি রোগের লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য
l সাধারণ উপসর্গের মাঝে রয়েছে হুইজিং, বুকে চাপ বা বুকের ভেতর খামচে ধরার অনুভূতি, শ্বাসকষ্ট, স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস নিতে না পারা এবং কাশি।
l প্রায় সময়ই এ্যাজমা রোগকে সাধারণ ঠান্ডা-সর্দি-কাশি ভেবে ভুল করা হয়। অনেক সময় শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী কোন সংক্রমণ ভেবেও ভুল করা হতে পারে।
l এ্যজমার উপসর্গগুলি প্রকট হয়ে ওঠে সাধারণতঃ - ঠান্ডা আবাহওয়ায়, ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম, বায়ুবাহিত বিভিন্ন এলার্জেন ও দূষণকারী কণার সংস্পর্শে আসলে, এবং ভাইরাস ঘটিত শ্বাসতন্ত্রের রোগের ফলে।
l হুইয বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে তীক্ষ্ন বাঁশির মত শব্দ ছাড়া সাধারণতঃ এ্যজমা নির্ণয়ের অন্য উপায় তেমন নেই। ন্যাসাল পলিপ এবং একজিমা আছে কি না সেটাও দেখা হয়। বিরল ক্ষেত্রে, একটি ভাসকুলাইটিক র্যাশ থাকতে পারে। এই র্যাশের অর্থ ইয়োসিনোফিল ঘটিত “ গ্রানুলোমেটোসিস” এবং পলিএনজাইটিস রয়েছে। অতীতে একে বলা হত “ চার্গ-স্ট্রওস সিন্ড্রোম”।
l যেসব রোগীর “ মাইল্ড ইন্টারমিটেন্ট এ্যজমা” তাদের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে হাঁপানি বৃদ্ধি পাওয়া ব্যাতীত অন্য সময়গুলোতে রোগের তেমন কোন লক্ষণ থাকে না। “ পার্সিসটেন্ট এ্যজমা”র রোগীরা সবসময়ই শ্বাসকষ্ট এবং হুইজযের কথা বলে থাকেন। তবে সেটিও ক্ষেত্র বিশেষে ভিন্নরকম। অনেক রোগীর পুরো এক দিন উপসর্গ থাকে, কারও কারও ক্ষেত্রে পরপর কয়েকদিন, আবার অনেকের জন্য মাসের পর মাস।
l এ্যজমার একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দিন-রাত্রির আবর্তনের সাথে এর সম্পর্ক। সাধারণতঃ সকালের প্রথম অংশে ফুসফুসের কার্যক্রম ও উপসর্গগুলো সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকে।
l অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কাশি একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। হুইয এবং শ্বাসের সমস্যার থাকে না এদের। যেকারণে এ্যজমা রোগ হিসেবে নির্ণয় হতে দেরী হয়ে যায়। একে নাম দেয়া হয় “ কফ ভ্যরিয়েন্ট এ্যজমা”
l আপার-এয়ারওয়ের অনেক প্রদাহই এ্যজমার মত। যেকারণে এ বিষয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় প্রায়ই। সাইনুসাইটিস, সাইনাস জনিত মাথাব্যাথা, নাক বন্ধ থাকা বা সর্দি পড়া, ঘ্রাণশক্তি হ্রাস পাওয়ার ইতিহাস রয়েছে কিনা রোগীর সেটি অবশ্যই চিকিৎসককে জানাবেন।
l কি থেকে একজন রোগীর এ্যজমা হচ্ছে সেটি অধিকাংশ সময়ই নির্ণয় করা কঠিন। তারপরও সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত। একটু খেয়াল করলেই রোগী বুঝতে পারবেন, কোন ধরণের জিনিসগুলোর সংস্পর্শে আসলে তার হাঁপানির উপসর্গগুলো প্রবল হয়। চিকিৎসকও রোগীকে নির্দিষ্ট এলার্জেন বিষয়ে প্রশ্ন করে এই ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারেন। যেমন , ঘরে পোষা প্রাণী আছে কি না, পোকামাকড়ের উৎপাত রয়েছে কি না। অনেক সময় পানির পাইপ থেকে ঘরের দেয়াল নষ্ট হয়ে যায় এবং শেওলা জন্মায়। এটি থেকেও অনেকের হাঁপানি হতে পারে।
l কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ঔষধপত্রের ব্যবহার এ্যজমার কারণ। যেমন ধরুন বিটা ব্লকার। চোখের ড্রপ হিসেবে ব্যাবহার করলেও, বিটা ব্লকারের কারণে শ্বাসনালীকাগুলোর সংকোচন ঘটতে পারে। একই বিষয় দেখা যায় এ্যাসপিরিল, নন-স্টেরয়ডাল এন্টিইনফ্লামেটরী ড্রাগগুলোর ক্ষেত্রেও।
l এ্যাসপিরিনের প্রতি সংবেদনশীলতা মূলতঃ নারীদের ক্ষেত্রেই বেশী দেখা যায়। এসব রোগীগণ সাধারণতঃ মধ্যবয়স্ক। চিকিৎসকের কাছে হাঁপানি, রাইনোসাইনুসাইটিস এবং ন্যাযাল পলিপ নিয়ে উপস্থিত হন এঁরা। এ্যসপিরিনের প্রতি সংবেদনশীল রোগীদর ক্ষেত্রে এ্যালকোহল বা স্যালিসাইলেট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের পরও এ্যাজমার বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পেতে পারে।
l অন্যান্য এমন ঔষধের মাঝে রয়েছে জন্মনিরোধী বড়ি, কোলিনার্জিক এজেন্ট এবং প্রোস্টাগ্লান্ডিন এফ-২০।
l পানের সুপুরিতে থাকে “ এ্যারেকোলাইন” নামক পদার্থ। রাসায়নিক গঠনের দিক থেকে এ্যরেকোলাইন অনেকটা মেথাকোলাইনের মত। এই পদার্থের উপস্থিতির ফলে সুপুরি এ্যজমার উপসর্গগুলো বৃদ্ধি করতে পারে।
l এ্যজমার রোগীদের মাঝে একটি ক্ষুদ্র অংশের হাঁপানি অতিরিক্ত প্রকট রূপ নেয়। এসব রোগীগণ মূলতঃ নারী। এখানে এলার্জিক কারণ সাধারণতঃ মুখ্য নয়। এয়ারওয়ে নিউট্রোফিলিয়াই প্রধান।
কিভাবে নিশ্চিত হবেন আপনি এ্যাজমায় আক্রান্ত ?
l এ্যাজমার ডায়গনোসিস প্রধানতঃ ক্লিনিকাল। অর্থাৎ চিকিৎসক আপনাকে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা নীরিক্ষার পরই একমাত্র বলা যায় যে, আপনি হাঁপানি রোগে আক্রান্ত। এজন্য চিকিৎসক আপনার রোগের ইতিহাস জানবেন, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করবেন ( লাং -ফাংশান টেস্ট)। সাথে অন্য পরীক্ষা নীরিক্ষাও করা হতে পারে। রোগ নির্ণয়ের এই পদ্ধতি সব রোগীর ক্ষেত্রে একরকম হবে না। এবং চিকিৎসা শুরু করার পর আবারও মূল্যায়ন প্রয়োজন।
l স্পাইরোমেট্রি সম্ভব না হলে, ‘ পিক ফ্লো মিটার’ ব্যাবহার করা যেতে পারে। যেসব রোগীদের উপসর্গ রয়েছে তাদেরকে সকালে ওঠার পর এবং রাতে দিন সমাপ্ত করার পর “ পিক ফ্লো রিডিং” গুলো পরিমাপ করার নির্দেশ দেয়া হয়। দিন ও রাতের পিক-ফ্লোর মাঝে বিশ শতাংশের বেশী পার্থক্য হলে অ্যাজমা আছে বলে ধরে নেয়া হয়। পার্থক্যের মাত্রা থেকে রোগ কতটা গুরুতর সেটি বোঝা সম্ভব। গ্লুকোকর্টিকয়েড দিয়ে কিছুদিন চিকিৎসা করে , যেমন দৈনিক ৩০ মিগ্রা দুই সপ্তাহ, এফ-ই-ভি-ওয়ান এবং পি-ই-এফের কোন উন্নতি হল কিনা তা থেকে রোগের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে।
l হাঁপানির উপসর্গ আছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রেও স্বাভাবিক লাং ফাংশান পাওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ টেস্টের মাধ্যমে এয়ারওয়ের হাইপাররেসপন্সিভনেস বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। এই পরীক্ষার এ্যাজমা নির্ণয়ে বেশ কার্যকরী। তবে অনেক , সি-ও-পি-ডি, ব্রঙ্কায়েকটেসিস এবং সিস্টিক ফাইব্রোসিসের রোগীদেরও এই পরীক্ষায় পজিটিভ দেখায়।
l হাঁপানির উপসর্গের সাথে ব্যায়ামের যোগ থাকলে, সেক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ের জন্য এক্সারসাইজ টেস্টই অধিক ফলপ্রসূ।
l স্কিন-প্রিক টেস্টের মাধ্যমে এটপির উপস্থিতি নির্ণয় করেও অ্যাজমা নিশ্চিত করা যায়। এলার্জেন-স্পেসিফিক ইমিউনোগ্লোবিউলিন-ই’র মোট পরিমাণও নির্ণয় করা যেতে পারে।
l পূর্বে কোনদিন গ্লুকোকর্টিকয়েড পায় নি এমন একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের FENO প্রতি বিলিয়ানে ৪০ পার্টের বেশী হলে এ্যাজমা ধরা হয়।
l রক্ত পরীক্ষায় ইয়োসিন কোষের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশী থাকাও এ্যজমার ইংগিত দেয়।
l বুকের এক্স-রেতে সাধারণতঃ কোন অস্বাভাবিকতা দেখা যায় না। তবে মিউকাস যদি একটি বড় ব্রঙ্কাসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, সেক্ষেত্রে ‘লোবার কলাপস’ দেখা যেতে পারে। সাথে ‘ফ্লিটিং ইনফিলট্রেট’ থাকতে পারে। তখন বুঝতে হবে , ‘এলার্জিক ব্রঙ্কোপালমোনারী এসপারগিলোসিস’ বিদ্যমান এ্যজমাকে জটিলাকার প্রদান করেছে।
l ব্রঙ্কায়েকটেসিস বা শ্বাসনালীকাগুলোর অতিরিক্ত প্রসারণ নির্ণয়ের জন্য হাই-রেজুলুশান-সিটি-স্ক্যান করতে পারেন চিকিৎসক।
l সংক্ষেপে বিষয়টি এমন : শ্বাসকষ্ট বিষয়ে এ্যাজমার সামনঞ্জস্যপূর্ণ অভিযোগ করবেন রোগী। সাথে আরও যা পাওয়া যেতে পারে
- FEV1 হবে ১২ শতাংশ এবং ২০০ এম-এল এর বেশী, ব্রঙ্কোডাইলেটার বা গ্লুকোকর্টিকয়েড প্রয়োগ করার পর। ১৫ শতাংশ এবং ৪০০ এম-এল এর বেশী হলে আরও নিশ্চিত হওয়া যায়
- পিক ফ্লোর দিন-রাত্রির পার্থক্য, তিন সপ্তাহ বা তার বেশী সময় ধরে, বিশ শতাংশের বেশী হলে
- ছয় মিনিট এক্সারসাইজ করার পর এফ-ই-ভি ওয়ান ১৫ শতাংশ কমে গেলে।
সচেতনতা, হাঁপানি সৃষ্টিকারী এলার্জেন গুলো থেকে দূরে থাকা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চললে, একজন এ্যজমা রোগীও সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করতে পারেন।
সুস্থ থাকুন। নিজের যত্ন নিন।
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------





কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন